Introduction of multimeter & details - Bangla

ইলেকট্রনিক্স কাজে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি বা ডিভাইসের মান পরিমাপ করা লাগে। এসবের জন্য রয়েছে নানান ধরনের মিটার। কারণ ইলেকট্রনিক্সে নানা ধরনের এক রয়েছে। যেমনঃ রেজিস্টরের রেজিসটেন্স, কারেন্টের অ্যাম্পিয়ার, ভোল্টেজ ,ও’হম সহ আরো অনেক। এসব মাপ-যোগ সহজ করার জন্য দিন দিন মিটার গুলো এনালগ থেকে ডিজিটালে পরিণত হয়েছে। যারা নতুন ইলেকট্রনিক্স নিয়ে পড়া-লেখা করছেন তাদের মিটার দিয়ে মাপ-যোগ করা জানাটা খুবই জরুরী। তাই আমি আজ মিটারের পরিচয় এবং এদের ব্যবহার সম্পর্কে বলার চেষ্টা করব। যদি কোন ভূল হয় তবে অবশ্যই সংশোধন করিয়ে দিবেন । তবে শুরু করা যাক।
Multimeter
Analog Multimeter



মাল্টি মিটার:



ভোল্টেজ, কারেন্ট এবং ও’হম পরিমাপ করার জন্য যে মিটার ব্যবহার করা , সেই মিটার কে মাল্টিমিটার বলে। মাল্টিমিটার ইলেকট্রনিক্সের খুবই প্রয়োজনীয় একটি মিটার। বাজারে ২ প্রকার মাল্টিমিটার পাওয়া যায়। এনালগ মাল্টিমিটার ও ডিজিটাল মাল্টিমিটার। এনালগ মাল্টিমিটার একটি গ্যালভানোমিটারের সাথে চলমান নির্দেশক ব্যবহার করে পাঠ প্রদর্শন করে। আর ডিজিটাল মাল্টি মিটারে এলইডি ব্যবহার করে পাঠ প্রদর্শন করে। দ্রুত পাঠ প্রদানের জন্য ডিজিটাল মাল্টিমিটার ব্যবহার করা উত্তম। কিন্তু এখনো দ্রুত পরিবর্তনশীল পাঠ নেয়ার জন্য এনালগ মাল্টিমিটার ব্যবহার করা হয়। আমি নিজেও এনালগ মাল্টি মিটার ব্যবহার করি । যারা নতুন মাল্টিমিটার ব্যবহার শিখছেন তাদের জন্য আমি এনালগ মাল্টিমিটার সাজেস্ট করব। এতে আপনাদের যে কোন প্রকার যন্ত্রপাতির মান নির্ণয়ে সঠিক ধারণা থাকবে যা ডিজিটালে পাবেন না। কারণ এনালগে নিজের হিসাব করে মান বের করতে হয়।

 এনালগ মাল্টিমিটারঃ


Multimeter
Multimeter


এখন আমরা বলব এনালগ মাল্টিমিটারে কি কি থাকে সে বিষয়ে।

 ১) পয়েন্টার (Pointer)
Multimeter Pointer
Multimeter Pointer


২) স্কেল প্লেট (Scale Plate)
৩) জিরো এডজাস্ট স্ক্রো ( Zero adjust scrow)
 ৪) জিরো এডজাস্ট নব ( Zero adjust knob)
 ৫) পজিটিভ টার্মিনাল (Positive Terminal ) 
৬) নেগেটিভ টার্মিনাল ( Negative Terminal) 
৭) রেঞ্জ সিলেক্টর সুইচ ( Range selector switch) 
৮) ইচ প্লেট (Each Plate)

ইলেকট্রনিক্সের কিছু সাধারণ প্রশ্নোত্তর

 পয়েন্টার ( Pointer) : নিচের চিত্রে পয়েন্টার উল্লেখ করা হলো। এটি দ্বারা পরিমাপ পাঠ নেয়া হয়। যন্ত্রের মান যত হবে সে মানে এটি পৌছাবে এবং নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে পরে মান নির্ণয় করে নিতে হবে। এটি মূলত ঘড়ির কাটার মতো হয়ে থাকে। 

 স্কেল প্লেট ( Scale Plate ) : মাল্টিমিটারে একটি স্কেল প্লেট থাকে । এই প্লেটে স্কেলের মত বিভিন্ন মান চিহ্নিত করা থাকে। মাল্টিমিটারে মূলত ৪ টি স্কেল থাকে। 
 ১) ও’হম (Ohm) 
২) এসিভি ( ACV) 
৩) ডিসিভি ( DCV ) 
৪) ডিসিএ ( DCA )

Multimeter Scale Plate
Multimeter Scale Plate



Multimeter Zero adjust screw
Multimeter Zero adjust screw 
যা পরিমাপ করতে চাই সেই অনুযায়ী রেঞ্জ সিলেকটর সুইচ ঘুরিয়ে দিতে হবে।

 জিরো এডজাস্ট নব (Zero adjust knob ): এটি দ্বারা পয়েন্টার কে স্কেল প্লেটের শূন্য (০) মানে নেয়া হয়।

পজিটিভ টার্মিনাল ( Positive Terminal ): এটি হলো মাল্টিমিটারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি মূলত চিত্রের ন্যায় লম্বা তার যার এক প্রান্তে সরু অন্য প্রান্তে গোল পিন যা মাল্টিমিটারে ঢুকানো হয়। পজিটিভ তার লালা হয় তাই এই তার টিও লাল। যেই যন্ত্র বা ইকুইপমেন্টের মান নির্ণয় করব সেটির পজিটিভ প্রান্তে এই তার ধরব এবং অন্য পাশে নেগেটিভ তার। ফলে মিটার রিডিং দেবে।

মডুলেশন কি ?

 নেগেটিভ টার্মিনালঃ এটিও পজিটিভ তারের মতই শুধু পার্থক্য হলো এর রঙ কালো। এটি পজিটিভ তারের উলটো পাশে ধরতে হয়।

 Range selector switch : এটি দ্বারা আমরা সিলেক্ট করব কি পরিমাপ করব তা। যদি ওহম বা রেজিস্টরের মান নির্ণয় করতে চাই তবে আমরা ওহমে সুইচ টিকে ঘুরিয়ে দিব। এর পর আবার সমসা হলো প্রতিটা শাখার মান আছে বিভিন্ন। ওহমের মান ১ওহম থেকে ১ হাজার বা ১০ হাজার পর্যন্ত থাকে। আমরা কোথায় সুইচটি রাখব তা পরে বলে দেব।
Multimetr zero adjust knob
Multimeter Zero Adjust knob


জিরো অ্যাডজাস্ট স্ক্রুঃ জিরো অ্যাডজাস্ট নবের সাহায্যে যদি পয়েন্টার যদি সঠিক ভাবে শূন্যতে অ্যাডজাস্ট না করা যায় তবে এই স্ক্রু ঘুরিয়ে আমরা শূন্যতে নিতে পারি। অনে রাখতে হবে শূন্য তে অ্যাডজাস্ট করা খুবই জরুরী। নইলে আমরা সঠিক মান পাব না।

Important elements of Electronics

 অ্যানালগ মিটার দিয়ে মাপার পদ্ধতিঃ


 আমরা এখানে মাল্টিমিটার দিয়ে ও’হম ও ভোল্টেজ মাপার পদ্ধতি সম্বন্ধে জানব। ও’হম পরিমাপের জন্য প্রথমেই ১-২ টি রেজিস্টর নেই। রেজিস্টরের দুটি প্রান্ত। রেজিস্টর দুই প্রকার , ভ্যারিয়েবল রেজিস্টর এবং ফিক্সড রেজিস্টর। আমরা ভ্যারিয়েবল রেজিস্টর নেই কারণ ফিক্সড রেজিস্টরের নির্দিষ্ট দিক রয়েছে। এখন আমরা প্রথমেই মিটারের রেঞ্জ সিলেক্টর সুইচ ও’হমের দিকে ফিক্সড করি। সিলেক্টর নবটি ও’হমের রেঞ্জের মাঝে 100 থেকে 1k পর্যন্ত যেকোন একটিতে রাখি। সাধারণত রেজিস্টরের মান এর মাঝ থেকেই বের করা যায়। এর পর মিটার রিডিং নেই। পয়েন্টার স্কেলের কত তে রিডিং দিচ্ছে তা নোট কর । এর পর আমরা সিলেক্টর নব টি যে ঘরে রেখেছিলাম তার সাথে মিটারের রিডিং গুণ কর। গুণ ফল যত হবে রেজিস্টরের ওহমও ততই হবে।

Multimeter terminals
Multimeter Terminals


এখন আমরা মিটারের সাযাহ্যে ভোল্টেজ পরিমাপ করা শিখব- আগের মতই আমরা সিলেক্টর সুইচ টিকে বামে ঘুরিয়ে DCV তে নিয়ে যাই। এখান থেকে কত পতিমাপে ভোল্টেজ নির্ণয় করব সেই অনুযায়ী ফিক্সড করি। এখন এখানে একটি হিসাব রয়েছে।
আমরা যেই মাপ নিব যেমন- 10DCV যদি নেই তবে স্কেল প্লেটে সেকেন্ড স্কেলের মাপ নিবে যেখানে বামে শূন্য (০) থেকে ডানে দশ(১০) পর্যন্ত মাপ রয়েছে। এই স্কেলে আঅরা যেই 10DCV নিয়েছিলাম সেটা কে ১০ দিয়ে ভাগ করব। এবং ১০ টি ঘরের প্রতিটা ঘর ১ ভোল্টেজ করে পাবে। এখন ব্যাটারির নেগেটিভ আর পজিটিভ প্রান্তে টার্মিনাল গুলো লাগিয়ে মিটার রিডিং নেই। যদি পয়েন্টার ৬ নাম্বার ঘরে থাকে তবে বুঝতে হবে এর মান ৬ ভোল্টেজ। অনেকে এই যায়গায় এসে বুঝবেনা। তাই আরেক বার বলি।

Digital Multimeter
Digital Multimeter

রেঞ্জ সিলেক্টর সুইচ টি DCV এর যে কোন এক মানে বসাই। আমি আগের বার ১০ দিয়েছি তাই এবার ২.৫ ভোল্টেজ নিলাম। মানে আমি যা পরিমাপ করব তার রেঞ্জ ২.৫ ভোল্টের মাঝে হতে হবে। নয়তো পয়েন্টার সীমা অতিক্রম করবে। তখন বড় মাণ নিতে হবে। হ্যা, এখন আমরা স্কেলের ১০ টি পয়েন্টে এই ২.৫ ভোল্টেজ ভাগ করে দিব। তাই ২.৫ কে ১০ দিয়ে ভাগ করলে হয় 0.25v করে।

 এখন আমরা নেগেটিভ আর পজেটিভ টার্মিনালে লাগিয়ে পাঠ নেই। যদি ৬ এ যায় তবে 0.25 এর সাথে ৬ গুণ। যদি ৫ বা ৪ হয় তবে একই হবে।
 এভাবেই ভোল্টেজ পরিমাপ করে। যদি না বুঝে থাকেন তবে কমেন্টে জানাবেন। 


Introduction of Soldering Iron Set

 এখন কালার কোডের মাধ্যমে মিটারের রেজিস্টরের মাণ নির্ণয় শেখাবো। 

 কালার কোড এটা আবার কি ?
 অনেকেই এই প্রশ্ন করতে পারেন। তাদের জন্য উত্তর হলো- রেজিস্টরের গায়ে ৪টি ব্যান্ডের কালার থাকে। এই কালার গুলোর মান রয়েছে। যেগুলো সূত্রের মাধ্যমে আমরা রেজিস্টরের মান পরিমাপ করতে পারি। রেজিস্টরে সাধারণত ১২ প্রকার কালার দেখা যায়। প্রতিটা রেজিস্টরে এই ১২ রঙ থেকেই যে কোন ৪ টি রঙ থাকে। এখান থেকে ১০ টি মান নির্ণয়ের কালার । আর বাকি ২ টি টলারেন্স নির্ণয়ের কালার। এই কালার গুলোর মান শূন্য (০) থেকে ধরা হয়। মানে ১ নাম্বার কালারের মান ০, ২ নাম্বার কালারের মান ১।

 এখন দেখি কি কি কালার-



Multimeter Range selector switch
Multimeter Range selector switch


এখানে সোনালী আর রূপালী এগুলো টলারেন্সের কালার। যে কোন রেজিস্টরে এদের যে কোন একটি দেখা যাবে ৪র্থ ব্যান্ডে।
 মান নির্ণয়ের সূত্র-
A এবং B তে ১ম ও ২য় কালারের মান পাশাপাশি বসমে। মানে যদি প্রথম কালার হয় লাল তবে বসবে ২ এবং ২য় কালার নীল হলে বসবে ৬। দুটি পাশাপাশি বসে হবে ২৬। কোন যোগ ,বিয়োগ,গুণ ভাগ কিছুই না। এর পর এদের পর গুণ চিহ্ন দিয়ে ৩য় কালার হলো C । যা সাধারণত সূচক। ১০ এর উপর এর মান বসবে। যদি C সবুজ হয় তবে ৫ হবে ১০ এর সূচক। এর পর টলারেন্সের মান % হিসেবে হবে। এভাবে দেখি কত সুন্দর করে মান বের করতে পারেন।

এটা মনে রাখবেন, 1000 = 1k ohm 1000000 = 1M ohm যদি দেখি গুণ করে বড় মান যা ১ হাজার বা ১০ হাজারের বেশি হয় তবে সেটা ১ হাজার বা ১০ হাজার বসিয়ে ছোট করে নিব আর শেষে K (কিলো নিলে) বা M (মেগা নিলে) বসালেই হবে। এইতো আমরা অতি সহজেই মান বের করে নিলাম।

ধন্যবাদ।

Post a Comment

0 Comments