মডুলেশন ( Modulation) কি এবং কাকে বলে ?

যারা ইলেকট্রনিকস নিয়ে পড়েন তাদের কাছে মডুলেশন শব্দটি খুবই পরিচিত। কিন্তু বিষয়টি এতোটাও সহজ নয়। নানান জটিলতা মিশে আছে এর সাথে। কারণ টিভি ও রেডিও ব্রক কাস্টিং পদ্ধতির সাথে এটি ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত। ইন্টারনেটে এ বিষয়ে বাংলায় খুব কমই লেখা আছে। তাই আমিই ঘাটাঘাটি করে লিখে ফেললাম। আজ আমি আপনাদের সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর দেবার চেষ্টা করব।


Modulating Wave
Modulating Wave 


মডুলেশন (Modulation)  কি ?  


মডুলেশন হলো রেডিও বা ভিডিও ফ্রিকোয়েন্সী (তরঙ্গ) কে অন্য কোন উচ্চ মাত্রার তরঙ্গের সাথে মিশিয়ে দূরবর্তী স্থানে প্রেরণ করা। এই উচ্চ মাত্রার তরঙ্গটি মূল তরঙ্গকে অন্যান্য তরঙ্গ বা রিসিভার থেকে রক্ষা করে মূল রিসিভারের কাছে পৌছে দেয়। এটি মূলত ব্যবহার করা হয় মূল তরঙ্গের ক্ষতি রোধে। বায়ুর মাঝে যদি তরঙ্গটি মডুলেশন ছাড়া প্রেরণ করা হয় তবে সেটি অন্যান্য তরঙ্গের সাথে মিশে যেতে পারে, অথবা অন্য কেউ সেই তথ্য চুরি করে নিতে পারে অথবা তরঙ্গটি হাজার হাজার পথ অতিক্রম করতেই পারত না।  এটি মূলত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সীকে নষ্ট বা চুরির হাত থেকে রক্ষা করার একটি দৈঘ্য মেয়াদী প্রক্রিয়া।


ইলেকট্রিসিটি কি ?

মডুলেশন (Modulation)  কিভাবে হয়? 


টেলিযোগাযোগ পদ্ধতিতে তরঙ্গ কে মডুলেশনের জন্য এর সাথে উচ্চ মাত্রার তরঙ্গ মিশিয়ে তথ্যকে পরিবর্তন বা শোরগোল করে দেয়া হয়। ফলে মূল তরঙ্গের তিন ধরনের পরিবর্তন হয়। যথাঃ বিস্তার (ভলিউম), কম্পাংক (frequency), এবং দশা (পিচ)। ফলে তথ্য নিদিষ্ট যায়গায় বিনা বাধায় পৌঁছে যায়।

মডুলেশন (Modulation) কাকে বলে?              


এতোক্ষণ মডুলেশন কি সেটা ব্যাখ্যা করলাম। সেখান থেকে ধারণা পাওয়া যায় যে মডারেশনের সঙ্গা কি হবে। সে অনুযায়ী-
যে পদ্ধতিতে অডিও ফ্রিকোয়েন্সীকে হাই ফ্রিকোয়েন্সীর সাথে মিশ্রিত করা হয় তাকে মডুলেশন বলে।
অন্য ভাবে, যে প্রক্রিয়ায় উচ্চ ক্যারিয়ার (রেডিও) ফ্রিকোয়েন্সীর সাথে নিম্ন ফ্রিকোয়েন্সীর অডিও বা ভিডিও সিগন্যাল ফ্রিকোয়েন্সীকে মিশ্রিত করা হয়, তাকে মডুলেশন বলে।      


Amplitude & frequency modulation
Amplitude & frequency modulation  
             

মডুলেশনের প্রকারভেদঃ


মডুলেশন তিন প্রকার। যথাঃ
   
(ক) অ্যামপ্লিচ্যুড মডুলেশন। 
(খ) ফ্রিকোয়েন্সী মডুলেশন। 
(গ) ফেজ মডুলেশন। 

(ক) ( Amplitude Modulation ) অ্যামপ্লিচ্যুড মডুলেশনঃ যে মডুলেশনে মডুলেটিং ফ্রিকোয়েনন্সীর অনুক্রমে ক্যারিয়ার সিগন্যালের অ্যামপ্লিচ্যুড পরিবর্তন করা হয় তাকে অ্যামপ্লিচ্যুড মডুলেশন বলে। একে A.M মডুলেশনও বলে। 

(খ) ( Frequency Modulation ) ফ্রিকোয়েন্সী মডুলেশনঃ যে মডুলেশনে মডুলেটিং ফ্রিকোয়েন্সীর অনুক্রমে ক্যারিয়ার সিগন্যালের ফ্রিকোয়েন্সী পরিবর্তন করা হয়, তাকে ফ্রিকোয়েন্সী মডুলেশন বলে। একে F.M মডুলেশনও বলে।  
(গ ( Phase Modulation) ফেজ মডুলেশনঃ যে মডুলেশনেমডুলেটিংফ্রিকোয়েন্সীর অনুক্রমে ক্যারিয়ার সিগন্যালের ফেজ পরিবর্তন করা হয় তাকে ফেজ মডুলেশন বলে। একে P.M মডুলেশনও বলে।   

            লজিক গেইট কি?

অ্যামপ্লিচ্যুড মডুলেশনের বৈশিষ্ট্যঃ


১) A.M - এর ব্যান্ড উইডথ ছোট।
২) A.M -এর মধ্যে ইন্টারফিয়ারেন্স এবং নয়েজ বেশি।
৩) SNR কম।
৪) ব্যান্ড উইডথ ২০ কিলোহার্টজ।
৫) সাইড ব্যান্ডে পাওয়ার গৃহীত হয়।
৬) A.M - এর রেঞ্জ বেশি।


Phase Modulation
Phase Modulation 


 ফ্রিকোয়েন্সী মডুলেশনের বৈশিষ্ট্যঃ


১)F.M- এর ব্যান্ড উইডথ বড়। 
২)F.M - এর ইন্টারফেয়ারেন্স এবং নয়েজ কম।
৩) SNR বেশি।
৪) ব্যান্ড উইডথ ১০০ কিলোহার্টজ। 
৫) সাইড ব্যান্ডে পাওয়ার গৃহীত হয় না।         
৬)F.M - এর রেঞ্জ কম। 


Frequency  modulation
Frequency modulation  


মডুলেশনের প্রয়োজনীয়তাঃ


১)  এন্টিনার দৈর্ঘ্য কমাতে ।
২)অপারেটিং রেঞ্জ বৃদ্ধি করে ।
৩) ফ্রি স্পেসে বেশি দূর পর্যন্ত তথ্য পৌছে দেয়া যায়। 
৪) তার বিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা বৃদ্ধি করে ।
৫) সিগন্যালের গোপনীয়তা বৃদ্ধি করে।
৬) ব্যান্ড উইডথ ইচ্ছা মত বৃদ্ধি করা ও কমানো যায় ।

ডিমডুলেশন কি এবং এর প্রয়জনীয়তা কি?


মডুলেশন অর্থাৎ ফ্রিকোয়েন্সীতে শোরগোল তৈরি করা , এর উপর একটি কাভার দেয়া । যখন রিসিভার এই ফ্রিকোয়েন্সী বা তরঙ্গ গ্রহণ করে তখন তা শোনার যোগ্য থাকেনা ।এর থেকে মূল তরঙ্গ বের করে আনতে হয় ।এই বের করে আনার প্রক্রিয়াকেই ডিমডুলেশন বলে ।


Demodulation
Demodulation


অর্থাৎ , যে পদ্ধতিতে মূল মডুলেটিং সিগন্যাল থেকে হাই ফ্রিকোয়েন্সীকে পৃথক করা হয় তাকে ডিমডুলেশন বলে। 



ইলেকট্রনিকসের প্রয়োজনীয় শব্দাংশ
            
কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য-

সাইড ব্যান্ডঃ মডুলেশনের সময় ক্যারিয়ার ফ্রিকোয়েন্সীর সাপেক্ষে যে অতিরিক্ত ফ্রিকোয়েন্সী উতপন্ন হয় তাকেই সাইড ব্যান্ড বলে ।

সাইড ফ্রিকোয়েন্সিঃ যখন কোন মডুলেটিং সিগিন্যালকে অ্যামপ্লিচ্যুড মডুলেশনের পদ্ধতিতে ক্যারিয়ার ফ্রিকোয়েন্সির সাথে মিশ্রিত করা হয় তখন ফ্রিকোয়েন্সী দ্বয় মিশ্রিত হয়ে দুটি নতুন ফ্রিকোয়েন্সী গঠন করে। এদেরকে সাইড ফ্রিকোয়েন্সী বলে ।

 আপার সাইড ব্যান্ডঃ ক্যারিয়ার ফ্রিকোয়েন্সী এবং মডুলেটিং ফ্রিকোয়েন্সি দ্বয়ের যোগফল কে  আপার সাইড ব্যান্ড বলে।

লোয়ার সাইড ব্যান্ডঃ  ক্যারিয়ার ফ্রিকোয়েন্সী এবং মডুলেটিং ফ্রিকোয়েন্সী দ্বয়ের বিয়োগফল কে লোয়ার সাইড ব্যান্ড বলে ।

ক্যারিয়ার ওয়েভঃ আরএফ অসিলেটর হতে উতপন্ন হাই ফ্রিকোয়েন্সীর রেডিও ওয়েভ কেই ক্যারিয়ার ওয়েভ বলে।
ব্যান্ড উইডথঃ ব্যান্ড উইডথ হচ্ছে দুটি ফ্রিকোয়েন্সী সর্বোচ্চ হতে সর্বনিম্ন এর পরিধির সীমারেখা।

  • ক্যারিয়ার ফ্রিকোয়েন্সী = fc
  • মডুলেটিং ফ্রিকোয়েন্সী = fm
  • ব্যান্ড উইডথ = 2fm
ধন্যবাদ সময় নিয়ে পড়ার জন্য।
Reactions

Post a Comment

0 Comments