ইলেকট্রিসিটি (Electricity) কি ?

৮ম শ্রেণি থেকে বিজ্ঞান বইয়ে এই বিষয়ে অধ্যায় থাকে। আর যারা ভোকেশনাল লাইনে পড়ে  তাদের জন্য তো অবশ্যই । কিন্তু ইলেকট্রিসিটি (Electricity) জিনিস টা বুঝতে সবাই সমস্যা হয় ।আমার নিজেরও বুঝতে সময় লেগেছে। তবে শুরু করা যাক। সকলের সাধারণ প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব।


Electricity Tower
ইলেকট্রিসিটি টাওয়ার

ইলেকট্রিসিটি কি ?



ইলেকট্রিসিটি এক প্রকার অদৃশ্য শক্তি যা তরল বা গ্যাসের মতো প্রবাহিত হয়। ইলেকট্রনের প্রবাহ দ্বারা এ শক্তি সৃষ্টি হয়। তরল কিংবা গ্যাস পাইপের মাধ্যমে যাবার সময় দেখা যায় কিন্তু ইলেকট্রিসিটি দেখা যায়না। কারণ ইলেকট্রন অতি ক্ষুদ্র হয়। পরমাণুর ভেতরে ইলেকট্রন অসম সংখ্যক হলে এই বিদ্যুতের সৃষ্টি হয়। 


বুঝতে পারনি! 


All Electronics Short Code Meaning


তবে শোন, আমরা জানি পরমাণু ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউটনের সমন্বয়ে গঠিত। প্রোটন ও ইলেকট্রন চার্জ সম্পূর্ণ হয়। ইলেকট্রন নেগেটিভ (Negative) চার্জ সম্পূর্ণ ।একটি পরমাণুর ভেতরে যতগুলো ইলেকট্রন থাকে ততগুলোই প্রোটন থাকে। তাই একটি নির্দিষ্ট পরমাণু যেমনঃ অক্সিজেনের  ইলেকট্রন সংখ্যা ৮ টি। মানে প্রোটন সংখ্যাও একই, অক্সিজেনের আলাদা আর সোডিয়ামের ও এইসব সংখ্যা আলাদা। যখন একটি পরমাণুর ইলেকট্রন সংখ্যা আর প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন হয় তখন ইলেকট্রন তার স্বাভাবিক ভারসাম্য হারায়। এই ভারসাম্যহীনতা যদি ধাতব বস্তুর ভেতর দিয়ে হয় তবে সেখানে ইলেকট্রিসিটির সৃষ্টি হয়। ইলেকট্রিসিটির একক অ্যাম্পিয়ার (A) এবং প্রতিক কারেন্ট (I)। 

কারেন্টের সূত্রঃ I = V/R [ ব্যাখ্যা করা হবে ]


এখন যদি প্রশ্ন করো ইলেকট্রন ও প্রোটন কিভাবে ভিন্ন হয় তবে এই পোস্টে বলতে পারব না। কারণ এটি রসায়নের পোস্ট নয়। তবে এটুকু বুঝে নাও, রসায়ন ছাড়া ইলেকট্রিসিটি বুঝতে পারবে না।

system of electricity
System of electricity




ইলেকট্রিসিটির বর্ণনা



এবার ইলেকট্রিসিটির সংজ্ঞা দেয়া যাক,


“ কোন পরিবাহী পদার্থের মুক্ত ইলেকট্রন সমূহের একটি নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত হওয়ার হারকেই ইলেকট্রিসিটি (Current) বলে। “

একি, আমার ব্যখ্যার সাথে তো কিছুই মিললো না। এর কারণ এতক্ষণ আমি ইলেকট্রিসিটি কি সেটা বলেছি । এখন বর্ণনার পালা। 
সবার আগে প্রশ্ন আসে “মুক্ত ইলেকট্রন কি?”


মুক্ত ইলেকট্রন হল কোন পরিবাহী বা অর্ধপরিবাহিতে জমে থাকা ইলেকট্রন । অর্থাৎ যথেষ্ট পরিমান চাপ বা বিভব শক্তি না থাকার ফলে চার্জ বা মুক্ত ইলেকট্রন তার যায়গাতেই জমে থাকে । একে অন্য ভাবে “ স্থির বিদ্যুৎ” বলে। উদাহরণ হিসেবে একটি চিরনি, ছোট কয়েক টুকরা কাগজ ও রেশমি কাপড় দরকার। রেশমি কাপড়ের সাথে চিরনি কিছুক্ষণ ঘসে তা কাগজের টুকরোগুলোর কাছে নিলে দেখতে পাবে চিরনি কাগজ গুলোকে আকর্ষণ করছে। কেন? কারণ প্লাস্টিকে রেশমি কাপড় ঘষলে সে স্থানে স্থির বিদ্যুৎ বা মুক্ত ইলেকট্রনের সৃষ্টি হয়। এটা হয়তো তোমরা অনেকেই খেয়াল করেছ।  যারা জাননা, এখনি চেষ্টা করে দেখ।

এখন প্রশ্ন হলো বিভব শক্তি কি? 



মনে আছে, লেখার প্রথমেই বলেছি গ্যাস বা তরল যেমন পাইপের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় তেমনি ইলেকট্রিসিটি ধাতব তারের (পরিবাহী পদার্থ) মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় এক স্থান হতে অন্য স্থানে। কিন্তু গ্যাস বা তরল উচু নিচু পাইপের মধ্য দিয়ে কিভাবে প্রবাহিত হয়?
উত্তর টা নিশ্চয় জানো?
হ্যা, চাপের ফলে। পাইপের শুরুতে চাপ বেশি থাকে। ফলে বেশি ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের স্থানে প্রবাহিত হয়। এভাবেই, ইলেকট্রিসিটিও চলে। তবে এই ইলেকট্রিসিটি চলার জন্য যেই পথ অর্থাৎ সেতু দরকার সেটার নাম ইলেকট্রন।


ইলেকট্রিসিটি ইলেকট্রন যেই দিকে রয়েছে সেই দিকে চলে।
অর্থাৎ ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিকে  ইলেকট্রিসিটি প্রবাহিত হয়। আর চলার জন্য দুই পাশের এই চাপের নামই বিভব পার্থক্য। এই বিভব পার্থক্য কে ইংরেজিতে ইলেকট্রোমোটিভ ফোর্স বা EMF বলে।
সঙ্গা অনুযায়ী -"কোন পদার্থের অধিক ঘনত্বযুক্ত স্থান হতে কম ঘনত্বযুক্ত এলাকায় ইলেকট্রন প্রবাহের চাপকেই ইলেকট্রোমোটিভ ফোর্স বা EMF বা বিভব পার্থক্য বলে। এর একক ভোল্ট (Volt)। 
তোমাদের জেনে রাখা ভালো,ভোল্টেজ ছাড়া বিদ্যুৎ চলাচল করতে পারেনা।

What is Logic Gate ?


ইলেকট্রিসিটির প্রকারভেদ


ইলেকট্রিসিটি প্রধানত দুই প্রকার-
১)স্থির বিদ্যুৎ (Static Electricity)
২)চল বিদ্যুৎ (Dynamic Electricity) 

চল বিদ্যুৎ বা Dynamic Electricity আবার দুই প্রকার। যথা-
১)অল্টারনেটিং কারেন্ট বা AC Current বা দ্বিমুখী বিদ্যুৎ। 
২)ডাইরেক্ট কারেন্ট বা DC Current বা একমুখী বিদ্যুৎ।                


চল বিদ্যুৎ চলাচল করে মানে আমাদের দেখা স্বাভাবিক ইলেকট্রিসিটির মতো।যা দিয়ে আমরা বাতি,ফেন,ফ্রিজ চালাই।

AC Current
AC Current


এখন আসা যাক  এসি কারেন্ট (AC Current) নিয়ে-

যে কারেন্ট নিয়মিত সময় অন্তর দিক ও মান পরিবর্তন করে তাকে এসি কারেন্ট বলে। 


চিত্রে দেখা যাচ্ছে, একটি রেখা সময়ের সাথে উপর নিচ হচ্ছে। যখন এই রেখা উপরের দিকে যাচ্ছে একে Positive Max এবং Negative Max বলে। যখন এই বিদ্যুৎ রেখাটি উপরের দিকে উঠে তখন একে  Positive Half-cycle বলে। আর নিচের অর্ধেক কে বলে Negative Half-cycle।এই Half-cycle এর মান ৯০° ডিগ্রী।
একটি Full Cycle এর মান ৩৬০° ডিগ্রী
এক কথায়-
অল্টারনেটিং কারেন্টের একটি পূর্ণাঙ্গ পজিটিভ ও নেগেটিভ মানকে একটি সাইকেল বলা হয়।
এক সাইকেল = ৩৬০°।

 কারেন্টের সূত্রঃ I=q/t

এখানে,  I = কারেন্ট,  q = চার্জ, t = সময় বোঝায়।



নিচে এসি ও ডিসি কারেন্টের মাঝে পার্থক্য নিচে উল্লেখ করা হলোঃ



১) এসি কারেন্ট দ্বিমুখী, অন্যদিকে ডিসি কারেন্ট একমুখী।
২)এসি কারেন্ট সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন মান পাওয়া যায়, কিন্তু ডিসি কারেন্টে সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন মান পাওয়া যায় না।
৩)এসি কারেন্টের নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সী আছে, কিন্তু ডিসি কারেন্টের নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সী নেই।
৪)এসি কারেন্টের রিপল ফ্রিকোয়েন্সী থাকতে পারে, ডিসি কারেন্টের মধ্যে রিপল ফ্রিকোয়েন্সী থাকতে পারে আবার নাও থাকতে পারে।


Introduction of Soldering Iron Set

৫)এসিতে হারমোনিক্স  আছে, কিন্তু ডিসিতে হারমোনিক্স নেই।



[বাকি অংশ পরবর্তীতে]

যে কোন সমস্যায় যোগাযোগ করুন এবং আমাদের সাহায্য করুন।
ধন্যবাদ সময় নিয়ে পরার জন্য।
Reactions

Post a Comment

4 Comments

  1. Replies
    1. ধন্যবাদ সময় নিয়ে পড়ার জন্য।আশা করি পরবর্তী পর্বও পড়বেন।

      Delete
  2. পরবর্তী পর্ব কবে পাব?

    ReplyDelete
    Replies
    1. আশা করি খুব দ্রুতই।
      ধন্যবাদ

      Delete

Please do not enter any spam link in the comment box.